সম্পদ সৃষ্টির বাধা বা প্রতিবন্ধকতা বলতে কী বোঝো? সম্পদ সৃষ্টির বাধা বা প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে আলোচনা করো।

সম্পদ সৃষ্টির বাধা বা প্রতিবন্ধকতা বলতে কী বোঝো? সম্পদ সৃষ্টির বাধা বা প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে আলোচনা করো: প্রকৃতি মানুষ এবং সংস্কৃতির পারস্পরিক ঘাত-প্রতিঘাতে সম্পদ সৃষ্টি হয়। সম্পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই উপাদানগুলির যেমন অনুকূল প্রভাব আছে, তেমনি প্রতিকূল প্রভাবও আছে। সম্পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই প্রতিকূল প্রভাবগুলিকে সম্পদ সৃষ্টির বাধা বা প্রতিবন্ধকতা বলে। সম্পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রধানত তিন ধরনের বাধা বা প্রতিবন্ধকতা দেখা যায়। সেগুলি হল-

১)প্রাকৃতিক বাধা: প্রকৃতি যখন সম্পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে, তখন তাকে প্রাকৃতিক বাধা বা প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা বলে। প্রকৃতির আলো,বাতাস, জল, জীবজগৎ ইত্যাদি উপকরণ সম্পদের সম্ভাব্য আধার হলেও সম্পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে এগুলিই অনেক সময় বাধার সৃষ্টি করে। ঊষর মরুভূমি, অনুর্বর মৃত্তিকা, বন্যা, খরা, ভূমিকম্প ইত্যাদি প্রাকৃতিক ঘটনাগুলি সম্পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে বাধা স্বরূপ।

২)মানবীয় বাধা: মানুষের শিক্ষাদীক্ষা, সামাজিক চেতনা, জ্ঞান-বুদ্ধি, প্রযুক্তিবিদ্যা, কর্মদক্ষতা ইত্যাদি সম্পদ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। কিন্তু মানুষের অজ্ঞতা, নিরক্ষরতা, জাতিবিদ্বেষ, যুদ্ধ-বিগ্রহ ইত্যাদি মানবীয় বিষয়গুলি সম্পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। এগুলিকে সম্পদ সৃষ্টির মানবীয় বাধা বা মানবীয় প্রতিরোধ বলা হয়।

৩)সাংস্কৃতিক বাধা: প্রাকৃতিক বিষয়গুলিকে সম্পদে পরিণত করার জন্য মানুষের উদ্ভাবিত কলাকৌশল গুলিকে সমষ্টিগত ভাবে সংস্কৃতি বলা হয়। কিন্তু অনেক সময় মানুষের কতকগুলি সংস্কৃতিগত বিষয় সম্পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। রক্ষণশীলতা, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, শ্রেণীবিরোধ, পুরানো যন্ত্রপাতির ব্যবহার, কারিগরি দক্ষতার অভাব,অবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সংস্কৃতিগত বিষয়গুলি সম্পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাধা স্বরূপ। এগুলিকে সম্পদ সৃষ্টির সাংস্কৃতিক বাধা বলা হয়।

Leave a Comment