ভারতের মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো। | ভারতের জলবায়ুর ওপর মৌসুমী বায়ুর প্রভাব আলোচনা করো।

ভারতের মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো। | ভারতের জলবায়ুর ওপর মৌসুমী বায়ুর প্রভাব আলোচনা করো।

ভারতের জলবায়ু মৌসুমী বায়ু বা ঋতুকালীন বায়ুপ্রবাহের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয় বলে ঋতু অনুযায়ী এদেশের জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়। এই কারণে ভারতকে মৌসুমি বায়ুর দেশ বলা হয়। নিম্নে মৌসুমী বায়ু দ্বারা প্রভাবিত ভারতের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করা হলো।

১)ঋতু পরিবর্তন: মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের উপর নির্ভর করে ভারতে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত-এই চারটি ঋতু চক্রাকারে আবর্তিত হয়।

২)বৃষ্টিপাত সংঘটন: ভারতে সংঘটিত মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় 90% মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের উপর নির্ভর করে ঘটে থাকে।

৩)বৃষ্টিপাতের বিরতি: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতে একটানা বৃষ্টিপাত হয় না, মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাতের সাময়িক বিরতি ঘটে।

৪)অসম বৃষ্টিপাত: মৌসুমী বায়ু ভারতের বিভিন্ন অংশে বিভিন্নভাবে প্রবাহিত হয় বলে এদেশের সর্বত্র বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সমান নয়।

৫)খরা ও বন্যা সৃষ্টি: মৌসুমী বায়ুর খামখেয়ালি চরিত্রের জন্য ভারতে কখন অতিবৃষ্টির প্রভাবে বন্যা, আবার কখনো বা অনাবৃষ্টির প্রভাবে খরা সৃষ্টি হয়।

৬)আর্দ্র গ্রীষ্মকাল ও শুষ্ক শীতকাল: মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের প্রভাবে ভারতে গ্রীষ্মকাল আর্দ্র এবং শীতকাল শুষ্ক হয়। মৌসুমী বায়ু আগমন কালে সমুদ্রের ওপর দিয়ে আসে বলে বায়ুতে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে। তাই গ্রীষ্মকাল আর্দ্র হয়।আবার শীতকালে এই বায়ু স্থলভাগ থেকে প্রত্যাগমন করে বলে বায়ুতে জলীয়বাষ্প কম থাকে। তাই শীতকাল শুষ্ক হয়।

৭)ঋতুকালীন বায়ুপ্রবাহ: মৌসুমী বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের দ্বারা এদেশের ঋতুকালীন বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই গ্রীষ্মকালে সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে অর্থাৎ দক্ষিণ থেকে উত্তরে এবং শীতকালে স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে অর্থাৎ উত্তর থেকে দক্ষিনে বায়ু প্রবাহিত হয়।

৮)ঘূর্ণবাত সৃষ্টি: পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও প্রত্যাগমনকারি মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সষ্টি হওয়া ঘূর্ণবাতের কারণে শরৎকালে এদেশের সমুদ্র উপকূল বরাবর মাঝে মাঝে প্রবল ঝড় বৃষ্টি হয়।

Leave a Comment