কাউন্ট রামফোর্ড জীবনী – Count Rumford Biography in Bengali

কাউন্ট রামফোর্ড জীবনী: gksolve.in আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে Count Rumford Biography in Bengali. আপনারা যারা কাউন্ট রামফোর্ড সম্পর্কে জানতে আগ্রহী কাউন্ট রামফোর্ড এর জীবনী টি পড়ুন ও জ্ঞানভাণ্ডার বৃদ্ধি করুন।

কাউন্ট রামফোর্ড কে ছিলেন? Who is Count Rumford?

স্যার বেঞ্জামিন থম্পসন, কাউন্ট রামফোর্ড (মার্চ 26, 1753 – 21 আগস্ট, 1814) ছিলেন একজন আমেরিকান-জন্মত ব্রিটিশ পদার্থবিদ এবং উদ্ভাবক যার প্রতিষ্ঠিত শারীরিক তত্ত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছিল 19 শতকের অংশ। তাপগতিবিদ্যায় বিপ্লব। তিনি আমেরিকান বিপ্লবী যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ অনুগত বাহিনীর অংশ, কিংস আমেরিকান ড্রাগনস-এর লেফটেন্যান্ট-কর্নেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি লন্ডনে চলে যান, যেখানে তার প্রশাসনিক প্রতিভা স্বীকৃত হয় যখন তিনি একজন পূর্ণ কর্নেল নিযুক্ত হন এবং 1784 সালে তিনি রাজা জর্জ তৃতীয় থেকে নাইটহুড লাভ করেন । একজন প্রসিদ্ধ ডিজাইনার, থম্পসন যুদ্ধজাহাজের নকশাও আঁকেন। পরে তিনি বাভারিয়ায় চলে যান এবং সেখানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন, বাভারিয়ান সেনা মন্ত্রী নিযুক্ত হন এবং সেনাবাহিনীকে পুনরায় সংগঠিত করেন এবং 1791 সালে, পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের একটি গণনা করা হয়।

কাউন্ট রামফোর্ড জীবনী – Count Rumford Biography in Bengali

নামকাউন্ট রামফোর্ড
জন্ম26 মার্চ 1753
পিতাবেঞ্জামিন থম্পসন
মাতারুথ সাইমন্ডস
জন্মস্থানওবার্ন, ম্যাসাচুসেটস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
জাতীয়তাঅ্যাংলো – আমেরিকান
পেশাপদার্থবিদ
মৃত্যু21 আগস্ট, 1814 (বয়স 61)

কাউন্ট রামফোর্ড এর জন্ম: Count Rumford’s Birthday

কাউন্ট রামফোর্ড 1753 সালের মার্চ 26 জন্মগ্রহণ করেন।

কাউন্ট রামফোর্ড এর পিতামাতা ও জন্মস্থান: Count Rumford’s Parents And Birth Place

তাপ সম্বন্ধে বিজ্ঞানীদের ধ্যানধারণার পরিবর্তন ঘটিয়ে তাপ গতিবিদ্যার সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন রামফোর্ড। তাপবিজ্ঞানে আজকের দিনের অগ্রগতির মূলে রয়েছে এই বিজ্ঞানীর নিরলস সাধনা। আমেরিকার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৭৫৩ খ্রিঃ রামফোর্ডের জন্ম হয়েছিল। বাল্য ও কৈশোরের শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি সৈন্যবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে উপনিবেশিক গ্রেট ব্রিটেনের পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন বলে জানা যায়। এই যুদ্ধে ব্রিটেনের পরাজয় ঘটে। বাধ্য হয়ে তখন রামফোর্ডকে দেশত্যাগ করে লন্ডনে পালিয়ে যেতে হয়।

কাউন্ট রামফোর্ড এর কর্ম জীবন: Count Rumford’s Work Life

লন্ডনে রামফোর্ড কর্মজীবন শুরু করেন ইঞ্জিনিয়ার রূপে। প্রিন্স অব ব্যাভেরিয়ার অধীনে কাজ করতে হয় তাঁকে। পরে এই কাজ ছেড়ে তিনি মিউনিখ শহরের অস্ত্রশালায় কামান তৈরির কাজে নিযুক্ত হন। এখানে কাজ করবার সময়েই ১৭৯৮ খ্রিঃ অত্যন্ত আকস্মিকভাবে তিনি তার প্রসিদ্ধ তাপগতিবিদ্যার তথ্য আবিষ্কার করেন। এই তথ্য আবিষ্কারের আগে পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, তাপ অতি সূক্ষ্ম পদার্থকণা। এই কণাগুলো বস্তু থেকে বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তাপের উৎপত্তি ঘটায়। প্রচলিত এই ধারণা রামফোর্ডের অজানা ছিল না।

একদিন কামান তৈরির জন্য তিনি একখানা ধাতব পাত ছিদ্র করছেন, সেই সময় লক্ষ করলেন পাতটি ভয়ানক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কারণ বুঝতে না পেরে তিনি বিস্মিত হলেন। এরপর তিনি পাতখানাকে জলে ডুবিয়ে রেখে ছিদ্র করতে আরম্ভ করলেন। বিস্ময়ের তখনো যথেষ্ট বাকি ছিল। পাতখানা এত উত্তপ্ত হয়ে উঠল যে জল ক্রমেই গরম হতে লাগল। শেষে একসময় ফুটতে আরম্ভ করল। ব্যাপারটা রামফোর্ডের মনে রেখাপাত করল। তিনি ঘটনাটার কার্যকারণ সম্বন্ধে গভীর ভাবে চিন্তা করতে লাগলেন।

তাপ অতি সূক্ষ্ম এক পদার্থকণা এবং এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে সঞ্চালিত হয়। রামফোর্ড চিন্তা করলেন, যদি তাই হয় তাহলে ঠান্ডা ধাতব পদার্থের সংস্পর্শে এসে জল স্ফুটনাঙ্কে পৌঁছল কি করে ? ঠান্ডা ধাতব পদার্থে তাপ কিভাবে সঞ্চালিত হওয়া সম্ভব ? অনেক চিন্তার পর রামফোর্ড এই সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন যে, কোন বস্তুর উত্তপ্ত হওয়ার পেছনে অন্য কোন কারণ নিহিত। অন্য বস্তু থেকে তাপসঞ্চালনই একমাত্র কারণ নয়, ঘর্ষণের ফলেই তাপ উৎপন্ন হয়। রামফোর্ড তার এই সিদ্ধান্তের কথা লন্ডনের বিখ্যাত কয়েকটি বিজ্ঞানের পত্রিকায় প্রবন্ধাকারে প্রকাশ করলেন।

মহান বিজ্ঞানী হামফ্রে ডেভি তখন ইংলন্ডে স্বমহিমায় বর্তমান। রামফোর্ডের প্রবন্ধটি তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করল। তাপের উৎপত্তি সম্পর্কে তার মনেও সন্দেহ উপস্থিত হল। তিনি বসে গেলেন রামফোর্ডের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে। এই উদ্দেশ্যে তিনি কয়েকটি বিশেষ ধরনের পরীক্ষা চালালেন। এক সময় বরফে বরফে ঘর্ষণের ফলাফলও লক্ষ করলেন। প্রবল ঘর্ষণের ফলে বরফ গলে জল হয়ে গেল। প্রচলিত ধারণা ছিল যে বরফের মধ্যে তাপের সূক্ষ্ম কণা অনুপস্থিত, সেকারণেই পদার্থটি বরফ। কিন্তু পরীক্ষার ফলে দেখা গেল বরফ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা সত্য নয়।

তাপহীন বস্তু থেকে তাপ সঞ্চালন হওয়া তো সম্ভব নয়। অথচ বরফ তাপ ব্যাতিরেকে গলবার কোন কারণ নেই। ডেভি রামফোর্ডের যুক্তিকে সমর্থন করে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করলেন। এইভাবেই অতি সাধারণ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রামফোর্ড তাপবিজ্ঞানের জগতে নতুন যুগের সূচনা করলেন। এরপর রামফোর্ড মিউনিখ অস্ত্রশালার চাকরি ছেড়ে ১৭৯৯ খ্রিঃ লন্ডনে চলে এলেন। জীবনের অবশিষ্ট সময় তিনি বিজ্ঞানের উন্নতির চেষ্টায় বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। লন্ডনের বিখ্যাত রয়েল ইনসটিটিউশনের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।

কাউন্ট রামফোর্ড এর মৃত্যু: Count Rumford’s Death

১৮১৪ খ্রিঃ কাউন্ড রামফোর্ডের মৃত্যু হয়।

Leave a Comment