মৌসুমি বায়ু ভারতে আসে কেন? ভারত কে কেন মৌসুমি বায়ুর দেশ বলা হয়?

মৌসুমি বায়ু ভারতে আসে কেন? ভারত কে কেন মৌসুমি বায়ুর দেশ বলা হয়?: আমরা জানি প্রতি বছর জুন ও জুলাই মাসে মৌসুমি বায়ু ভারতে আসে এবং তার ফলে ভারতে বর্ষার সূচনা হয় এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। এখানে আমাদের মনে স্বভাবতই একটা প্রশ্ন জাগে এই মৌসুমি বায়ু ভারতের আসে কেন এবং কেনই বা ওই একটি নির্দিষ্ট সময়েই আসে । আমরা এখানে এই মৌসুমি বায়ুর ভারতে আসার কারণ জানার চেষ্টা করবো।সবার প্রথমে আমাদের কিছু বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অবশ্যই দরকার । যেমন:

প্রথমত – আমরা জানি যে প্রতিবছর সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিনায়নের সাথে পৃথিবীর যে বায়ু চাপ বলয় গুলি রয়েছে তা ৫ ডিগ্রি উত্তর ও দক্ষিনে সরে যায়।

দ্বিতীয়ত – উত্তর গোলার্ধে বায়ু যে দিক থেকে প্রবাহিত হোক না কেন তা ফেরেলের সূত্র অনুসারে ডান দিকে বেঁকে যায় এবং দক্ষিন গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়ে থাকে।

মৌসুমি বায়ুর ভারতে আসার কারণ – ভারতবর্ষ ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় গ্রীষ্মকালে সূর্যের উত্তরায়ণের সময় ভারতীয় উপমহাদেশে সূর্য লম্ব ভাবে কিরন দেয়, ফলে প্রচণ্ড উষ্ণ হয়ে পড়ে বলে ভারতীয় স্থলভাগের উপর গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে আরব সাগরের জলভাগ স্থলভাগের তুলনায় কম উষ্ণ হওয়ায় জলভাগের ওপর উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়।

ঠিক এই সময় সূর্যের উত্তরায়ন চলতে থাকে বলে পৃথিবীর বায়ুচাপ বলয় গুলি কিছুটা উত্তর দিকে সরে যায় । তাই নিরক্ষরেখা বরাবর যে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় রয়েছে সেটিও ৫ ডিগ্রি উত্তর দিকে সরে উত্তর গোলার্ধে অবস্থান করে। ফল স্বরূপ দক্ষিন গোলার্ধে যে দক্ষিন-পূর্ব আয়ন বায়ু প্রবাহিত হয়, তা মকরীয় উচ্চচাপ যুক্ত অঞ্চল থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয় বলে,  দক্ষিন-পূর্ব আয়ন বায়ু উত্তর গোলার্ধে প্রবেশ করে কারণ এই সময় নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় উত্তরে সরে অবস্থান করে।

তাই দক্ষিন-পূর্ব আয়ন বায়ু যখন উত্তর গোলার্ধে প্রবেশ করে তখন সেটি ফেরেলের সূত্র অনুসারে ডান দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হতে শুরু করে। আবহবিদ ফন একে নিরক্ষীয় পশ্চিমা (Equatorial Westerlies) বায়ু বলেছেন। এই নিরক্ষীয় পশ্চিমা বায়ু ভারতীয় স্থলভাগ ও জলভাগের মধ্যে যে উচ্চচাপ ও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছিল সেই বায়ু চাপের ঢাল অনুসারে দক্ষিন-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু রূপে ভারতে প্রবেশ করে। তাই দেখা যাচ্ছে গ্রীষ্মকালে এই বায়ুচাপ বলয়ের স্থান পরিবর্তন ও তার সাথে সাথে স্থলভাগ ও জলভাগের মধ্যে যে চাপের পার্থক্য সৃষ্টি হচ্ছে তা মৌসুমি বায়ুকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভারতে আসতে সাহায্য করছে। 

Leave a Comment